ফাইবার হলো ফ্রিল্যান্সারদের জন্য গঠিত একটি অনলাইন মার্কেট প্লেস। ২০১০ সালে ইসরাইলের একটি কোম্পানি এটি প্রতিষ্ঠা করে, যা বিশ্বব্যাপী সেবা প্রদান করে এবং ২০১২ সালের তথ্য মতে তাদের ৩০ লক্ষ সেবা নথিবদ্ধ হয়।

প্রতিষ্ঠাতা মিকা কাফম্যান এবং শাই উইনারারের দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ফেব্রুয়ারি২০১০ এ এটি চালু করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা অনলাইন সেবার বাজারের ধারণা নিয়ে এসেছিলেন যা ফ্রিল্যান্স ঠিকাদারদের দ্বারা দেওয়া বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবাদি কিনতে এবং বিক্রি করার জন্য দুই পক্ষের প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করবে। সাইটে দেওয়া পরিষেবাগুলি লেখা, অনুবাদ, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এবং প্রোগ্রামিং ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।

ফাইবার কি?

Fiverr হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে মানুষ কোনো কাজের জন্য অন্য মানুষকে ভাড়া করে থাকে কিংবা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কাজ করিয়ে নেয়। Fiverr মার্কেটপ্লেস-এ যেকোনো সেবা বা সার্ভিস ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। আপনি যদি অনলাইনে কোনো কাজে দক্ষ থাকেন তাহলে Fiverr.com এ জয়েন করে কাজ করার মাধ্যমে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। আমাদের আজকের বিষয় হলোঃ Fiverr কি, Fiverr এ কি কি কাজ পাওয়া যায় এবং Fiverr এ কাজ পাওয়ার উপায় কি?

চলুন বিস্তারিত জেনে নিই-

ফাইবার মার্কেটপ্লেসঃ

অনলাইনে অনেক ধরনের মার্কেটপ্লেস আছে । এর মধ্যে Freelancer, এবং Upwork অন্যতম। Fiverr এদের মতোই একটি মার্কেটপ্লেস এখানে যে কেউ চাইলেই একাউন্ট খুলে কাজ করতে পারে। নতুনদের জন্য Fiverr একটি আশার আলো বলতে পারেন। আপনি যদি একদম নতুন ফ্রিলান্সার হয়ে থাকেন এবং অনলাইন থেকে আয় করতে চান তাহলে Freelancer কিংবা Upwork আপনার জন্য যথাযথ হবে না।

কেননা সেখানে অপেক্ষাকৃত প্রতিযোগীতা একটু বেশি। কিন্তু Fiverr মার্কেটপ্লেসে প্রতিযোগীর সংখ্যা কম। তাছাড়া, যেহেতু এখানে সাশ্রয়ী মূল্যে সকল সার্ভিস পাওয়া যায়, তাই এখানে বায়ারের সংখ্যাও অনেক বেশি। তাই নতুনদের জন্য Fiverr দিয়েই ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার গড়া যুক্তিসংগত বলে আমি মনে করি।

ফাইবার কিভাবে কাজ করে?

Fiverr মূলত সেলারের সার্ভিসগুলো বায়ারের কাছে পৌছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এবং এক্ষেত্রে বায়ার এবং সেলার উভয়ের কাছ থেকেই Fiverr লাভ করে।

এখানে যারা সেলার তারা নিজেদের সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করে পোস্ট করে, যাকে ফাইবারের ভাষায় বলা হয় গিগ। এবং যারা বায়ার (সার্ভিস ক্রয় করে) তারা গিগগুলো থেকে পছন্দমতো একটি বাছাই করতে পারে।

গিগ বাছাই করার পর উল্লেখিত অর্থ ফাইবারে জমা দিবে এবং সেলার তার কাজটি সম্পন্ন করে বায়ারের কাছে জমা দিলে Fiverr টাকাটি সেলারের একাউন্টে ডুকিয়ে দিবে। তারপর সেখান থেকে পেপাল বা পেওনার কার্ডের মাধ্যমে সেলার নিজের ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবে।

এখানে জেনে রাখা ভালোঃ বায়ার(Buyer ) হলো তিনি , যিনি কিছু কিনতে চায়। আর সেলার(Seller) হলো তিনি, যিনি কিছু বিক্রি করতে চায়।

এভাবেই Fiverr এ বেচাকেনা সম্পূর্ন হয়। আপনার যদি কোনো অনলাইন সার্ভিস থাকে এথবা কোনো সার্ভিসের প্রয়োজন হয় তাহলে আপনি ফাইবারে একাউন্ট খুলে সেখান থেকে সুবিধা পেতে পারেন।

ফাইবার এ কি কি কাজ পাওয়া যায়?

ফাইবারের সাধারণত অনেক ধরণের কাজ  থাকে। তার মধ্যে যে কাজ গুলো বেশী থাকে সেগুলো হলোঃ

Digital Marketing

মার্কেটিং বলতে বুঝায় কোনো একটি প্রোডাক্ট বিক্রয় করার জন্য এর প্রচার করা। একটি প্রোডাক্ট অনেক ভাবেই মার্কেটিং করা যায়। যেমন: social media marketing, SEO, content marketing(guest-post), Podcast marketing, E-mail marketing ইত্যাদি। তো, আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর যেকোনো সেক্টরে খুব বেশি দক্ষ হোন তাহলে বিভিন্ন কম্পানি বিভিন্ন প্রোডাক্ট প্রচার করার মাধ্যমে Fiverr থেকে উপার্জন করতে পারবেন। যদি আপনার সার্ভিস সত্যিই খুব ভালো হয়ে থাকে তাহলে সেখান থেকে পরবর্তীতে তাদের কম্পানিতে পার্মানেন্ট জব পেয়ে যেতে পারেন।

Programming

প্রোগ্রামিং বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমনঃ আপনি প্রোগ্রামিং করে একটি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন, মোবাইল এপ্লিকেশন বানাতে পারবেন, কোনো সফটওয়ার বানাতে পারবেন কিংবা কোনো রোবট বানাতে পারবেন। কিন্তু আমাদের দেখে প্রোগ্রামিং বলতে ওয়েব ডিজাইন কিংবা ওয়েব ডেভেলোপমেন্টকেই বুঝানো হয়ে থাকে। যাই হোক, প্রোগ্রামিং টা তুলনামূলক একটু কঠিন কাজ। খুব বেশি দক্ষ না হলে এই কাজটি করা যায় না। আর প্রোগ্রামিং শিখার জন্য আপনাকে অনেক সময় নিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। কিন্তু এই কাজের চাহিদা অনেক বেশি। আপনি যদি এই কাজে অনেক দক্ষ হতে পারেন তাহলে ২ দিন কাজ করে ১০০০ ডলার ইনকাম করে ফেলতে পারবেন।

প্রোগ্রামিং এর কাজের মূল্য অনেক বেশি। একটি প্রোজেক্টের জন্য একজন প্রোগ্রামার সর্বনিন্ম ১০০০ ডলার থেকে ৫,০০০ ডলার বা তার বেশি এমাউন্ট চার্জ করতে পারে। একজন বড় মানের প্রোগ্রামার একটি প্রোজেক্টের জন্য ৫০,০০০-১,০০,০০০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করে থাকে। তো বুঝতেই পারছেন এর চাহিদা কেমন! এমনকি Fiverr মার্কেটপ্লেসেও এর অনেক চাহিদা রয়েছে।

Graphics design

গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্যও রয়েছে অনলাইনে বিরাট সুযোগ। আপনি যদি ভালো ডিজাইন তথা Logo design, Business card design, Postcard design, flyers design, Banner desing ইত্যাদি বিষয়ে খুব বেশি পারদর্শী হোন তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে একটি পরিষ্কার ভবিষ্যত।

Video Editing

অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ভিডিও এডিট করে দেওয়ার মাধ্যমেও ইনকাম করা যায়। এক্ষেত্রে Adobe premiere pro বা Filmora দিয়ে ভিডিও তৈরি করতে পারলেই আপনি Fiverr মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া ভিডিও এডিটিং এর মধ্যে রয়েছে Short video ads, spokespersons video Editing, visual effect সহ নানা ধরনের কাজ।মনে রাখবেন, ভালো ভিডিও ইডিটরের ভবিষ্যত জীবন উজ্জ্বল। আর কেবল মাত্র ফাইবারে নয়, সারা পৃথিবীতে এই ভিডিও ইডিটরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

Article/content writing

অনলাইন মার্কেটপ্লেসে content writing খুব জনপ্রিয় একটি কাজ । আপনি যদি ইংরেজীতে অনেক পারদর্শী হন তাহলে ইংরেজীতে কন্টেন্ট লেখার মাধ্যমে Fiverr থেকে অনেক ভালো টাকা আয় করতে পারবেন। Content writing এর চাহিদা অনেক বেশি। দিন দিন এর চাহিদা আরো বেড়েই চলেছে। ১০০০ হাজার শব্দের একটি আর্টিকাল লেখার জন্য অনেকে সর্বনিন্ম ২০ ডলার চার্জ করে থাকে। বুঝতেই পারছেন, যেখানে কিনা বাংলাদেশে ১০০০ শব্দের একটি রচনা লিখে দিলে কেউ ১০০ টাকাও দিবে না সেখানে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে ১০০০ শব্দের একটি আর্টিকাল লিখে দেওয়ার জন্য ২০ ডলার তথা ১৬০০ টাকা দিয়ে থাকে। তাছাড়া, আপনি যদি আমেরিকান নেটিভ কাউকে দিয়ে কন্টেন্ট রাইটিং করিয়ে নিতে চান তাহলে ১০০০ শব্দের জন্য ১০০ ডলার গুনতে হতে পারে। এখন বুঝতেই পারছেন কন্টেন্ট রাইটের কত মূল্য।

SEO optimization

এসইও এর পূর্নরূপ হলো সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন। আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন করে কোনো পেইজকে গুগলের প্রথমে নিয়ে আশার কাজ জানেন তাহলে কেবল মাত্র Fiverr থেকেই আপনি মাসে সর্বনিন্ম ২০০০ ডলার ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমান পৃথিবীতে এর মূল্য অনেক বেশি। বড় বড় কম্পানিগুলো তাদের ওয়েবসাইটকে গুগলের এক নম্বরে নিয়ে আশার জন্য টাকার দিয়ে নজর দেয় না। তারা এসইও এর পিছনে অনেক টাকা ব্যয় করে থাকে।

Fiverr এ কাজ পাওয়ার উপায় কি?

অনেক মানুষ আছে যাদের ভালো কাজের দক্ষতা থাকার শর্তেও ফাইবারে কোনো কাজ পায় না। কারন তারা ফাইবারে কাজ করার সঠিক নিয়মটি জানে না।

ফাইবারে কোনো বায়ার যদি কোনো কিছু লিখে সার্চ করে তাহলে সেখানে অনেক অনেক রেজাল্ট দেখায়। মূলত প্রথম দিকে যেই রেজাল্টগুলো থাকে তারাই অধিক পরিমানে কাজ পেয়ে থাকে।

আপনিও যদি ফাইবারে কাজ পাওয়ার উপায় সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে দেখে নিন Fiverr এ কাজ পাওয়ার কয়েকটি উপায় –

  1. সুন্দর করে একটি গিগ সাজাতে হবে।
  2. গিগের টাইটেলের মধ্যে মেইন কি-ওয়ার্ড দিতে হবে যেন এটি লিখে কেউ সার্চ করলে আপনার গিগটি প্রদর্শিত হয়।
  3. মেটা ডিস্ক্রক্রিপশনে মেইন কি-ওয়ার্ড দিতে হবে ২-৩ বার।
  4. আকর্ষনীয় একটি গিগ ফটো দিতে হবে।
  5. গিগ ফটোর ফাইলের নামের মধ্যে মেইন কি-ওয়ার্ড রাখতে হবে।
  6. গিগ প্রকাশ করার সাথে সাথে যত জায়গার সম্ভব তা শেয়ার করে দিতে হবে।
  7. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো গিগ পাবলিশ করার পর থেকে আপনাদের এক্টিব থাকতে হবে।
  8. আপনি যদি গিগ বানিয়ে ফেলে রেখে দেন এবং সাপ্তাহে ৩-৪ দিন ফাইবারে ২-৩ ঘন্টার জন্য সক্রিয় থাকেন তাহলে আপনি কাজ পাবেন না। বরং প্রতিদিন এক্টিব থাকতে হবে।
  9. যে যত বেশি এক্টিব থাকে তার গিগ তত প্রথম দিকে থাকে এবং বেশি পরিমানে অর্ডায় পায়।
  10. কাজ পেয়ে গেলে কোয়ালিটি বজাই রেখে কাজ করা যেন ৫ স্টার রিভিও পান।

উপরের উপায়গুলো অনুসরন করে গিগ পাব্লিশ করলে আপনি অবশ্যই ফাইবারে কাজ পাবেন বলে আশা করি।

আজকের ব্লগের আলোচ্য বিষয় ছিল “ফাইবার কি? ফাইবার এ কাজ পাওয়ার উপায় কি?”। আশা করবো এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের জানার আগ্রহকে কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছি। আপনাদের বিশেষ কোনো প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আজকের লেখাটি এ পর্যন্তই। আপনার দিনটি শুভ হোক।

By Jillu Miah

আমি জিল্লু মিয়া। আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার এবং এসিও বিশেষজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *