ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি?

প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের ন্যায় চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনাকে Virtual Reality বলে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে মূলত কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত Simulation বা Modelling এর মাধ্যমে একটি কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক পরিবেশ তৈরি করা হয় যেখানে বাস্তবের ন্যায় অনুভূতি পাওয়া যায়।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি? (What is Virtual Reality?)

অপ্রকৃত বাস্তবতা বা অসদ্‌ বাস্তবতা হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, প্রকৃতপক্ষে বাস্তব নয়, কিন্তু বাস্তবের ধারণা সৃষ্টি করতে সক্ষম এমন কল্পনানির্ভর বিষয় অনুভব করার ত্রিমাত্রিক অবস্থা উপস্থাপনই হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

হেড মাউন্ট করা ডিসপ্লে বা হেডসেট যার মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল দৃশ্য অবলোকন করা যায়, হাতে ডেটা গ্লাভস যা দ্বারা ভার্চুয়াল পরিবেশের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া যায়, এমনকি তা স্পর্শের অনুভূতি প্রদান করে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়োগ (Virtual Reality Applications):

  • ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ।
  • ফ্লাইট সিমুলেশনের মাধ্যমে বিমান পরিচালনা প্রশিক্ষণ।
  • নভোচারীদের ভার্চুয়াল পরিবেশে মহাকাশে অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান।
  • সিমুলেটেড সার্জারির মাধ্যমে নতুন ডাক্তার কিংবা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান।
  • সামরিক বাহিনীতে যুদ্ধ পরিচালনা, অস্ত্র চালনা, আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের ব্যবহার, যুদ্ধ জাহাজ পরিচালনা, বিভিন্ন যুদ্ধসামগ্রী ব্যবহার প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান।
  • কোনো পণ্য উৎপাদনের পূর্বে পণ্যের মান ও গুণাগুণ পরীক্ষার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে তা জনসম্মুখে উপস্থাপন।
  • বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় কম্পিউটার গেইম তৈরি।
  • জাদুঘরে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন।
  • সিনেমার ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য ধারণে কিংবা বিভিন্ন ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন সিনেমা তৈরি।
  • স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়োগে নকশা প্রণয়ন কিংবা বিভিন্ন নগর উন্নয়ন রূপরেখার কাল্পনিক রূপদান।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কত ধরনের হতে পারে?

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সাধারণত ৫ ধরনের হতে পারে। নিচে সেগুলো উল্ল্যেখ করা হলো:

ফুল্লি-ইমার্সিভ: প্রকৃতি ও পরিবেশের অকল্পনীয় জগতের অনুভূতি পেতে এই আর্টিফিশিয়াল environment তৈরি করা হয়। ফলে আপনি আপনার ইচ্ছাকৃত স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন যেমন ধরুন সমুদ্রের তলদেশে তিমি মাছের দেখা পাওয়া ও জঙ্গলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় টার্জেনের মতো উড়ে বেড়ানো সবই পরিপূর্ণভাবে অনুভব করতে পারবেন আপনি।

সেমি-ইমার্সিভ: ফুল্লি-ইমার্সিভ ও নন-ইমার্সিভ এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে সেমি-ইমার্সিভ। কম্পিউটার এর মাধ্যমে ও মাউসের সাহায্যে  ক্যারেক্টার এর বৈশিষ্ট্য আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

নন-ইমার্সিভ: সফটওয়্যারের মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়। আপনারা অ্যানিমেশন বা গেমস খেলার মাধ্যম হিসেবে নন-ইমার্সিভ ব্যবহার করা যেতে পারে।

আর্গুমেন্টেড রিয়ালিটি: আপনারা হয়তো দেখতে পাবেন কোন সিরিজে কিছু কার্টুন ক্যারেক্টার থাকে যারা আপনাকে সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে।বর্তমানে টিভিতে এর ব্যবহার বেশিই দেখা যায়। অথবা যখন আপনি কিছু প্রোডাক্ট কিনতে যাবেন কিন্তু তা আগেই সেটার ভিউ নিতে চাচ্ছেন সেই সময়ে আর্গুমেন্টেড রিয়ালিটি এর ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোলাবরেটিভ ভিআর:উন্নত মানের প্রযুক্ত দিয়ে এই পরিবেশ তৈরি করা হয়ে থাকে। সাধারণত কয়েকজন মিলে এই ভার্চুয়াল প্রজেক্টে আসতে পারেন। পাবজি গেম এখন প্রচলিত গেমের মধ্যে একটি যা কোলাবরেটিভ ভিআর এর সাহায্যে চালিত হচ্ছে।

শেষকথা

আজকের ব্লগের আলোচ্য বিষয় ছিল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি। আশা করবো এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের জানার আগ্রহকে কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছি। এই লেখাটি পরবর্তীতে আপডেট করা হবে। এবং এখানে প্রকারভেদ, সুবিধা, অসুবিধা ইত্যাদি সম্বন্ধে আরো জানানো হবে। আপনাদের বিশেষ কোনো প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্ট করা জানাতে পারেন। প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা থাকলে তা রিপ্লাই দিবো। আজকের লেখাটি এ পর্যন্তই। আপনার দিনটি শুভ হোক।

By Jillu Miah

আমি জিল্লু মিয়া। আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার এবং এসিও বিশেষজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *