ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং করে কি আসলেই মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা যায়? ফেসবুকে নিউজফিড স্ক্রল করতে যেয়ে আমরা প্রায়ই এমন সব বিজ্ঞাপন দেখে থাকি- “মাত্র ১ মাস ফ্রিল্যান্সিং শিখে হয়ে যান লাখপতি! এসব বিজ্ঞাপন দেখে মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, এগুলো কি সত্যি আদৌ সম্ভব? উত্তর হলো, হ্যাঁ এবং না।

আপনি যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং কি ? এর সব বিষয়ে জানতে হবে। আর সেসব নিয়েই আজকের এই ব্লগ! এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব ফ্রিল্যান্সার কি, ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কি কিংবা ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায়, ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার, ও ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো সম্পর্কে বিস্তারিত।

ফ্রিল্যান্সিং কি

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) শব্দের অর্থই হচ্ছে মুক্ত পেশা। ফ্রিল্যান্সিং মূলত এমন একটি পেশা যেখানে আপনি ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
এটি সাধারন চাকরির মতোই, কিন্তু ভিন্নতা হলো এখানে আপনি আপনার স্বাধীন মতো কাজ করতে পারবেন। দেখা গেলো আপনার এখন কাজ করতে ইচ্ছা করছে না; আপনি করবেন না। যখন ইচ্ছা করবে তখন আবার চাইলেই করতে পারবেন।
 ফ্রিল্যান্সিং খাতে বাংলাদেশ বেশ ভাল অবস্থানে আছে, বিশ্বে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাদারদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে শত কোটি টাকার। হিসেব মতে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার আছে ৫ লক্ষাধিক। ফ্রিল্যান্সিং -এ যেমন রয়েছে সম্ভাবনা, তেমনি এ নিয়ে আছে প্রচুর ভুল ধারণা।
ফ্রিল্যান্সিং কি, এই বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের সঠিক ধারণা না থাকায় এই ভুল ধারণাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদ। এ সব নিয়েও আলোচনা হবে এই লেখাতে।

 মনে করুন আপনি একজন সিনেম্যাটোগ্রাফার। এখন একটা ভিডিও এডিট করার জন্য আপনার একজন ভিডিও এডিটর প্রয়োজন। তখনই আপনি একটা বিজ্ঞাপনে দেখলেন একজন এডিটর কাজ খুঁজছেন। ব্যস, আপনি তাকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কাজটা করতে বললেন। এখানে ভিডিও এডিটর হলেন ফ্রিল্যান্সার, আপনি বায়ার বা ক্লায়েন্ট এবং বিজ্ঞাপনটি হলো মার্কেটপ্লেস।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং এ মূলত ক্লায়েন্ট একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে আপনাকে কাজ দিবে, আপনি সে কাজে চুক্তিবদ্ধ হবেন, নিজের দক্ষতা দিয়ে কাজটা করবেন, আর সেটা অনলাইনের মাধ্যমেই ক্লায়েন্টকে ডেলিভার করবেন, আর ক্লায়েন্ট অনলাইনের মাধ্যমেই আপনাকে পেমেন্ট করবে।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কেন করবেন?

 ফ্রিল্যান্সিং সহজ কাজ নয়। তেমনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের আয় ও কম নয়। এই ক্যারিয়ার সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায়, একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের সফল হওয়ার পেছনের গল্প শুনলে আপনি তাকে ‘লিজেন্ড’ খেতাব দিবেন। একটা উদাহরণ দেয়া যাক।
 ১৫ হাজারের জব করার জন্য ১৫-১৮ বছর পড়াশোনা করলেন দু-বার না ভেবে। পড়াশোনা শেষ করে একটা লোকাল জবের জন্য প্রতিযোগীতায় নামলেন একই শহরের অন্যদের সাথে, যারা কিনা আপনার লেভেলের পড়াশোনাই করেছে।
 এবার ভাবুন ফ্রিল্যান্সিং এর কথা, আমেরিকার একটা কোম্পানি তাদের একটা জব আউটসোর্স করল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে। ২ সপ্তাহের প্রজেক্ট, ১ হাজার ডলার। এপ্লাই করল কারা? সারা বিশ্বের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ওপেন, (১টি দেশ নয়), বিশ্বের টপ প্রফেশনালরা এপ্লাই করল, আপনিও করলেন। তার মানে? এবার আপনার প্রতিযোগীতার লেভেল কোথায়?
 এবার ভাবুন, এই লেভেলে প্রতিযোগিতার জন্য আপনি শুধু ২ মাসের কোর্স করেই দক্ষ হতে পারবেন? সম্ভব নয়? ২ মাসের কোর্স যথেষ্ট নয়, এজন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং স্কিল অর্জন করতে হবে।

জনপ্রিয় ১০ টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস

  1. Fiverr
  2. Upwork
  3. Guru
  4. Freelancer.com
  5. People Per Hour
  6. 99 Designs
  7. Dribble
  8. Simply Hired
  9. Toptal
  10. Aquent

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো তা জেনে নিনঃ- 

 যেখানে আপনি নিজেই আপনার সময় এবং কাজের পরিবেশ বেছে নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। আপনি নিজের ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে অবশ্যই যে কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করতে পারেন:- 
যখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কথা আসে, আপনাকে অবশ্যই একটি দক্ষতা বেছে নিতে হবে। আপনি যে দক্ষতাটি চয়ন করেন তা আপনার পছন্দের এবং ভাল বোধ করা উচিত। আপনি সহজে যে কোন বিষয় নির্বাচন করুন যে আপনি ভাল. ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কিছু জনপ্রিয় দক্ষতা হলঃ
  1. ওয়েব ডিজাইন
  2. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  3. সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
  4. গ্রাফিক ডিজাইন
  5. লোগো ডিজাইন
  6. এসইও
  7. ডিজিটাল মার্কেটিং
  8. কন্টেন্ট রাইটিং
  9. ভিডিও এডিটিং
  10. ডাটা এন্ট্রি

যে কোন একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুনঃ-

 আপনি যে দক্ষতাটি বেছে নিয়েছেন সেটি বিভিন্ন উপায়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আপনি অনলাইন কোর্স করতে পারেন, ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারেন, বই পড়তে পারেন, যে প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং নিতে পারেন বা একজন অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারের সাথে কাজ করতে পারেন।

একটি পোর্টফোলিও তৈরি করুনঃ-

 একটি পোর্টফোলিও হলো আপনার কাজের নমুনা যা আপনি potential clients-কে দেখাতে পারেন। আপনার পোর্টফোলিওতে আপনার ভাল কাজগুলি অন্তর্ভুক্ত করুন। আবার সেটা হতে পারে আপনার একটি পার্সোনাল ওয়েবসাইট। একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার সেরা কাজ গুলো ক্লায়েন্টকে সহজেই দেখাতে পারবেন। এবং আপনার কাজের সার্ভিস ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচারণা করতে পারবেন।

বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুনঃ-

আপনার একটি অনলাইন প্রোফাইল থাকা দরকার যা potential clients-রা খুঁজে পেতে পারে। আপনি Upwork, Freelancer, Fiverr, ইত্যাদি মার্কেটপ্লেসে একটি প্রোফাইল তৈরি করতে পারেন।

কাজ পাওয়ার জন্য মার্কেটিং করুনঃ-

 আপনার কাজ খুঁজে পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই মার্কেটিং করতে হবে। আপনি আপনার পোর্টফোলিও এবং অনলাইন প্রোফাইল বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করতে পারেন। আপনি চাইলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও মার্কেটিং করতে পারেন।

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করুনঃ-

একবার আপনি দক্ষতা অর্জন করে এবং একটি পোর্টফোলিও তৈরি হয়ে গেলে আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ শুরু করতে পারেন। আপনি potential clients-দের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং তাদের কাজ করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং -এর অসুবিধা:

 ১। প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগে
২। সব মাসে সমান উপার্জন হয় না
৩। সামাজিক মর্যাদা

যাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার:

 ১। যারা শর্টকাটে টাকা আয় করতে চায় না
 ২। যাদের অতিরিক্ত লোভ নেই
 ৩। যারা কাজ শেখার ধৈর্য রাখে
 ৪। যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মত কমিউনিকেশন জানে
 ৫। যারা সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়
 ৬। যাদের জীবনে কিছু করার প্রবল ইচ্ছে আছে
৭। যাদের শেখার প্রবণতা আছে

By Jillu Miah

আমি জিল্লু মিয়া। আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার এবং এসিও বিশেষজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *