ফেসবুক মেসেঞ্জার কি?
ফেসবুক মেসেঞ্জার হলো একটি বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম। মূলত এটি ২০০৮ সালে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকর্তৃক ফেসবুক বার্তা হিসেবে বিকশিত হয় ৷ প্রথম দিকে এটিকে ফেসবুক চ্যাট নামে অতিবাহিত করা হতো৷  সংস্থাটি ২০১০ সালে তাদের বার্তা আদান-প্রদানের পরিষেবাটিকে আরও নবরূপে সূচীত করে, এরপর আগস্ট ২০১১-তে স্বতন্ত্রভাবে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড এর জন্য অ্যাপ্লিকেশনটি উন্মুক্ত করে। 

কিউ৪ ২০১৮ এর সম্মেলনে সংস্থাটি মেসেঞ্জার ভিত্তিক যোগাযোগের জন্য স্বাতন্ত্র্য ফেসবুক বাতায়ন হার্ডওয়্যার প্রকাশ করে। কয়েক বছর ধরে ফেসবুক বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তাদের অ্যাপ্লিকেশনটি উন্মুক্ত করেছে, নিবেদিত ওয়েবসাইট ইন্টারফেস (ম্যাসেঞ্জার ডটকম) চালু করেছে এবং প্রধান ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন থেকে বার্তা আদান-প্রদানের কার্যকারিতা পৃথক করেছে, যা ব্যবহারকারীদের ওয়েব ইন্টারফেস ব্যবহার করতে বা স্বতন্ত্র অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে অনুমোদন দেয়।

ব্যবহারকারী বার্তা প্রেরণ করতে এবং ছবি, ভিডিও, স্টিকার, অডিও এবং ফাইলসমূহ বিনিময় করতে পারে পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবহারকারীর বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং রোবটগুলোর সাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। পরিষেবাটি ভিওআইপি এবং ভিডিও যোগাযোগ সমর্থন করে। এই স্বতন্ত্র অ্যাপ্লিকেশনটি একাধিক অ্যাকাউন্ট একই সাথে ব্যবহার, এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঐচ্ছিক সুরক্ষিত কথোপকথন বজায়, এবং গেমস খেলা সমর্থন করে।

জানুয়ারি ২০১৭ সালে , ফেসবুক (Facebook)  ঘোষণা করেছে নগদীকরণ ছিল ফেসবুকে মেসেঞ্জারের হোম ফিডে বিজ্ঞাপন দেখানোর পরীক্ষা ৷ সেই সময় এই পরীক্ষাটি অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডের কিছুসংখ্যক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল৷ জুলাই মাসে, কোম্পানি ঘোষণা করে যে তারা একটি বিশ্বব্যাপী শ্রোতা পরীক্ষার বিস্তার করছে।

ফেসবুক মেসেঞ্জার (Facebook Messenger) এর  ১০ ব্যবহার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপের নাম ফেসবুক মেসেঞ্জার। শুরুর দিকে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করা ছিল এ্  অন্যের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করাই ছিল অ্যাপটির মুখ্য উদ্দেশ্য। এরপর প্রতি বছর নিত্য নতুন ফিচার যোগের ফলে আলাদা মাত্রা পেয়েছে।এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ফেসবুক মেসেঞ্জারের আপনি যে কাজগুলো করতে পারবেন সেটার তালিকা।

প্রিয়জন ও পরিচিতদের সঙ্গে আলাপচারিতা

সামনাসামনি কথা বলতে না পারলেও অফলাইন যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে মেসেঞ্জার। সেটা হতে পারে দৈনন্দিন আলাপচারিতা কিংবা বিশেষ দিনের শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময়ের আকাঙ্ক্ষা। কোনোকিছুই এখন আর দূরত্বের সীমানায় আটকে থাকে না।  এ ছাড়া পেশাদারিত্বের স্থান থেকেও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা এখন খুব বেশি প্রচলিত। যেখানে ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো অ্যাপ খানিকটা ব্যক্তিগত পরিধি নির্দেশ করলেও, মেসেঞ্জার সেখানে নিজস্ব ভাবধারায় বজায় রাখে দূরত্ব। তাই একদিকে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাখা অন্যদিকে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য মেসেঞ্জার অনন্য।

ভয়েস নোট, ইমোজি এবং জিআইএফ পাঠানো

ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলাপচারিতাকে সহজ করতে ম্যাসেঞ্জার টেক্সট পাঠানোর পাশাপাশি  অডিও বার্তার সুবিধা যোগ করেছে। প্রথম দিকে অডিও নোটের জন্য এক মিনিট সময়সীমা বরাদ্দ থাকলেও এখন দীর্ঘ ভয়েস নোট পাঠানো যায়। এ ক্ষেত্রে বিরতি নেওয়ার জন্য রেকর্ডের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী থাম্ব লক করা যায়। এ ছাড়া ইমোজি, স্টিকার, জিআইএফ এবং শব্দবার্তার মতো অ্যানিমেশন পাঠানোর মাধ্যমে স্বল্প বাক্য ব্যয়ে কথোপকথন করা যায়।

ছবি এবং ভিডিও বার্তা পাঠানো

দিনের শুরুটা যখন হয় প্রযুক্তি দিয়ে তখন শেয়ারিং মিডিয়া হয়ে ওঠে দৈনন্দিন জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ । আর এই বার্তা আদান-প্রদানের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীদের জন্য করে দিয়েছে ছবি এবং ভিডিও পাঠানোর সুযোগ।
কথা বলা ছাড়াও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি, ব্যক্তি  পরিচয় নিশ্চিতকরণ, ভার্চুয়াল সাক্ষাতের জন্য ছবি ও ভিডিও ফিচারের কোনো জুড়ি নেই। এ ক্ষেত্রে ইনবক্সে সেভ করা ছবি বা ভিডিও পাঠাতে ইমেজ অপশনে ক্লিক করলেই হয়ে যায়।  এ ছাড়া ক্যামেরা আইকন সিলেক্ট করে তাৎক্ষণিক ছবি তোলা এবং ভিডিও করা যায়। এটি মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশসহ বা ছাড়াই সামনের এবং পিছনের ক্যামেরা ব্যবহার করা যায়। আকর্ষণীয় ফিল্টারে ছবি তোলার অপশন তো রয়েছেই।
ফেসবুক মেসেঞ্জারের নতুন ফিচার হিসেবে ছবি সম্পাদনা ও সামঞ্জস্যতা রাখার জন্য ছবি কাটছাঁট করার পাশাপাশি স্টিকার, টেক্সট ও ডুডল যোগ করা যায়। একইভাবে ভিডিওবার্তা পাঠানো যায়। তবে সেগুলো অবশ্যই ২৫ মেগাবাইটের মধ্যে থাকতে হবে। এজন্য অনলাইন ভিডিও কম্প্রেসার ব্যবহার করা যেতে পারে।

কল করা

বেশ কয়েক বছর ধরে ভয়েস ও ভিডিও কলিং অ্যাপ হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে মেসেঞ্জার। অ্যাপটির মাধ্যমে স্বল্প ইন্টারনেটে ব্যবহারকারীরা কল করতে পারেন। ব্যক্তি যোগাযোগ ছাড়াও গ্রুপ কলে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া যায়। এ ছাড়া বাড়তি কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার না করে সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ সংক্রান্ত আলোচনা করতে মেসেঞ্জারের তুলনা নেই।

ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ চ্যাট করা

একই বার্তা অনেকের কাছে একই সঙ্গে পাঠানোর সহজ উপায় হলো গ্রুপ চ্যাট। কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা প্রজেক্টের পরিকল্পনা করার জন্য যেমন গ্রুপ চ্যাট খোলা হয়। তেমনি পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যক্তিদের যোগাযোগ স্থাপনেও এই অপশন ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে মেসেঞ্জার অ্যাপের প্রথম পাতার স্ক্রিনের ওপরের ডানদিকে পেন আইকনে ক্লিক করে নতুন গ্রুপ তৈরি করার অপশন নির্বাচন করতে হবে। তারপর পছন্দের সদস্যদের যোগ করে একটি নাম দিয়ে গ্রুপ খোলা যাবে।

থিম এবং নিকনেম কাস্টমাইজ করা

থিম ফিচার মেসেঞ্জার চ্যাটবক্সে ভিজ্যুয়াল প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে পছন্দ অনুযায়ী অপশন বাছাই করার সুযোগ রয়েছে যা চ্যাট টেক্সটের রঙ পরিবর্তন করতে সক্ষম। এসব থিম সাধারণত ব্যবহার উপযোগী এবং সহজলভ্য হলেও কিছু থিম রয়েছে যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহার করা যায়। প্রিয়জনকে পছন্দের নামে ডাকার অভ্যাস অনেকেরই। এই দিকটি মাথায় রেখে মেসেঞ্জার রেখেছে নিকনেম সেট অপশনের সুবিধা। এ ক্ষেত্রে চ্যাটবক্সের প্রোফাইলে ক্লিক করে নিকনেম অপশনে নাম টাইপ করা যায়।

লাইভ লোকেশন শেয়ার

নিকট আত্নীয়দের নিজের বর্তমান অবস্থান এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়সীমা অনুসরণ করতে সাহায্য করে লাইভ লোকেশন শেয়ারিং অপশন। এটি জরুরি পরিস্থিতিতেও ভূমিকা রাখে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো দুর্ঘটনা বা হয়রানি হলে ব্যক্তির অবস্থান অন্যকে অবগত করার জন্য এবং কীভাবে পৌঁছানো যাবে তার ধারণা দিতে পারে এই ফিচার।  এজন্য ম্যাপ খুলতে চ্যাটবক্সের বাম দিকের আইকনে ক্লিক করলে লোকেশন অপশন পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে সেটিংস থেকে অনুমতি নিতে হতে পারে। এটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজের অবস্থান শেয়ার করা এবং পিন করে অন্য কারও কাছেও পাঠানো যাবে।

স্টোরি যোগ করা

সম্প্রতি ম্যাসেঞ্জারে স্টোরি ফিচার আকর্ষণীয় করার জন্য যোগ করা হয়েছে পছন্দের গান এবং একাধিক ছবি কোলাজ আকারে একসঙ্গে যোগ করার সুবিধা। এ ছাড়া স্টোরিতে স্টিকার, ইমোজি, টেক্সট ইত্যাদি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অন্যের স্টোরিতে কে কী কমেন্ট করলো সেটিও দেখা যায় বর্তমানে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রাইভেসি অপশনের অনুমতি থাকতে হবে অবশ্য। এই অপশনটির মাধ্যমে মেসেঞ্জারে পরিচিতদের দৈনন্দিন আপডেট পাওয়া যায়।

ফেসবুক মেসেঞ্জার অনলাইন গেম খেলা

ব্যবহারকারীরা মেসেঞ্জারে রুম তৈরি করে অনলাইন গেম খেলতে পারে। খেলাধুলা, বুদ্ধিবৃত্তিক, এবং সাধারণ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন গেম খেলা যায়। এতে এক বা একাধিক ব্যবহারকারী যোগ করা যায়। গেমিং শুরু করার জন্য মেসেঞ্জার রুম ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে। এজন্য অ্যাকটিভিটিস অপশনে নেভিগেট করে যেকোনো গেম সিলেক্ট করে খেলা শুরু করা যাবে।

রেস্ট্রিক্ট করা

কাউকে এড়িয়ে চলার জন্য সব সময় ব্লক অপশনটি সুবিধাজনক হয় না বিধায় মেসেঞ্জার মিউট করার পাশাপাশি যোগ করেছে রেস্ট্রিক্ট করার ফিচার। যার মাধ্যমে ব্লক ছাড়াই নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতা এড়িয়ে চলা যায়। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলার সুযোগও পাওয়া যায়।

By Jillu Miah

আমি জিল্লু মিয়া। আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার এবং এসিও বিশেষজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *